১৩ মাসের মধ্যে প্রথমবার ফেব্রুয়ারিতে ভোক্তামূল্য সূচকের (সিপিআই) পতন দেখা গেছে চীনে। এতে ভূমিকা রেখেছে ভোক্তা চাহিদার ধারাবাহিক পতন ও চান্দ্র নববর্ষের ছুটিজনিত পরিস্থিতি। খবর রয়টার্স।
দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে সিপিআই কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া আগের মাস অর্থাৎ জানুয়ারির তুলনায় কমেছে দশমিক ২ শতাংশ।
বিশ্বের অনেক দেশ এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে লড়াই করছে, সেখানে চীনের নীতিনির্ধারকরা বিপরীত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। তারা মূল্য সংকোচন এড়ানোর চেষ্টা করছেন। গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস। সেখানে ভোক্তা চাহিদা ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নাটকীয় কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা থেকে পিছিয়ে এসেছেন নীতিনির্ধারকরা।
চীনের প্রধান উৎসব চান্দ্র নর্ববর্ষ। এ সময় সাধারণত ভ্রমণ, বাইরে খাওয়া ও বিনোদন খাতে খরচ বাড়ে। ছুটিজনিত কারণে জানুয়ারিতে ভোক্তামূল্য সূচক দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে পরের মাসে তা ২০২৪ সালের উঁচু স্তরের তুলনায় কমে যায়।
ছুটির প্রভাব বাদ দিলে গত মাসে চীনে সিপিআই বেড়েছিল দশমিক ১ শতাংশ। এমন তথ্য দিয়েছেন সরকারি পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যানবিদ দং লিজুয়ান। কিন্তু এটি আদর্শ মানের তুলনায় অনেক কম। বার্ষিক প্রতিবেদনে চলতি বছরের জন্য ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে এটি সম্ভবত লক্ষ্য থেকে অনেক কম থাকবে। গত বছরও ভোক্তামূল্য সূচক সমতল ছিল; মাত্র দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল।
ছুটি ছাড়াও সিপিআই কমার দুটি কারণ উল্লেখ করেন দং। ফেব্রুয়ারিতে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কৃষি উৎপাদন বেড়েছে, যার ফলে তাজা সবজির দাম কমেছে। এছাড়া বিক্রি বাড়ানোর জন্য নতুন গাড়ির দাম কমানো হয়েছে।